শ্রমিক দিবস ২০২৫: মুক্তির আহ্বান ও এনার্কি-আদর্শের পুনর্জাগরণ

Written by

in

by Bangladesh AnarchoSyndicalist Federation- BASF 


শ্রমিক দিবস ২০২৫: মুক্তির আহ্বান ও এনার্কি-আদর্শের পুনর্জাগরণ

“The liberty of the individual is not a concession by society; it is a birthright.”
Mikhail Bakunin

আজ ১লা মে, ২০২৫। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস।
সারা পৃথিবীর শোষিত, নিপীড়িত, অবহেলিত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন।
কিন্তু শুধুই স্মরণ নয়, এদিন হচ্ছে শাসক-শ্রেণির বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ঘৃণার উচ্চারণ, মুক্তির শপথ। এ দিনটি কোন রাষ্ট্রের দান নয়, এটি জন্ম নিয়েছিল রক্তে, আগুনে, বিদ্রোহে—১৮৮৬ সালের শিকাগো শহরে, যখন শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। আর আজ, ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে, আমরা সেই বিদ্রোহের উত্তরসূরিরা কী করছি?

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটঃ এক নতুন দাসত্বের শৃঙ্খল

আজকের পৃথিবী এক ভয়ানক বৈষম্যের আবর্তে আটকে গেছে। কোভিড-পরবর্তী পুঁজিবাদী পুণর্গঠনের নামে কর্পোরেট রাষ্ট্রগুলো নতুন এক দাসত্ব চাপিয়ে দিয়েছে।
AI ও অটোমেশনের যুগে শ্রমিকরা আজ আর শুধুমাত্র ‘শ্রমজীবী’ নয়, তারা হয়ে উঠেছে এক নিঃস্ব, অদৃশ্য শ্রেণি—“ডিজিটাল ছাঁটাই” নামক নীরব গণহত্যার শিকার।
কৃষক আত্মহত্যা করছে, নির্মাণ শ্রমিকরা বিনা চিকিৎসায় মরছে, অথচ ধনিকরা চাঁদে বিলাসবহুল হোটেলের স্বপ্ন দেখছে।

এই বৈষম্যের উৎস কী?

শাসন ও মালিকানার নির্মম কাঠামো

সমস্যার মূল—রাষ্ট্র, কর্পোরেট মালিকানা এবং কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার জোট।
রাষ্ট্র যাকে আইন বলছে, তা মূলত কর্পোরেট লুটপাটের পক্ষে বন্দুকধারী পাহারা।
এনার্কি বা নিরাষ্ট্রবাদ ঠিক এখানেই প্রশ্ন তোলে—
কেন কিছু মানুষ শাসন করবে আর বাকিরা শাসিত হবে?
কেন শ্রমিক তার নিজের শ্রমের ফল ভোগ করবে না?

“Property is theft!”Pierre-Joseph Proudhon

আজকের শ্রমিকদের মুক্তির জন্য আমাদের দরকার এমন এক সমাজ যেখানে—

  • কেউ কারো প্রভু হবে না,
  • উৎপাদনের উপায় থাকবে যৌথ মালিকানায়,
  • ক্ষমতা হবে তৃণমূলের হাতে,
  • প্রশাসন নয়, সমন্বয় থাকবে।

এই হলো এনার্কি—নৈরাজ্য নয়, বরং সত্যিকারের শৃঙ্খলা; যেখানে শাসন নেই, কিন্তু সহমর্মিতা আছে।

নতুন মুক্তির রূপরেখা: এনার্কো-সিন্ডিকালিজম

শ্রমিক আন্দোলনের এক প্রবল ধারাই হলো এনার্কো-সিন্ডিকালিজম—
যেখানে ইউনিয়ন কেবল দাবি আদায়ের সংগঠন নয়, বরং সমাজ পুনর্গঠনের হাতিয়ার।

“Workers’ councils are the living germ of the new society within the shell of the old.”Rudolf Rocker

এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য—

  • উৎপাদন ব্যবস্থার শ্রমিকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ,
  • সরাসরি গণতন্ত্রের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ,
  • নিপীড়নহীন ও রাষ্ট্রবিহীন সমাজের গঠন।

এই লক্ষ্যে এগোতে হলে দরকার—

  • শ্রমিক-ছাত্র-চাষি ঐক্য,
  • বিকেন্দ্রীকৃত সমবায়,
  • কর্পোরেট ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিরোধ।

আজকের আহ্বান

শ্রমিক দিবস মানে শুধু একটি ছুটির দিন নয়।
এটি বিদ্রোহের দিন। এটি প্রশ্ন তোলার দিন—
আমার শ্রম কে লুটছে?
আমার ভবিষ্যৎ কে চুরি করছে?
আমার জীবনের উপর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কে?

আজকের দিনে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে শ্রমিকদের মর্যাদা দিতে চাই, তাহলে শুধুমাত্র মিছিল নয়, লাগবে সংগঠন। শুধুমাত্র স্লোগান নয়, লাগবে বিকল্প কাঠামো নির্মাণ। রাষ্ট্র ও পুঁজির এই অমানবিক জোট ভেঙে নতুন এক পৃথিবী গড়তে হবে—যেখানে স্বাধীনতা মানে শুধুমাত্র ভোট নয়, বরং বেঁচে থাকার অধিকার, সৃষ্টির অধিকার, ভালোবাসার অধিকার।


শেষ কথা
“Freedom is the mother, not the daughter, of order.”
Pierre-Joseph Proudhon

এই পৃথিবী আমরা গড়ব। শাসকেরা নয়।
এই স্বপ্ন শুধু সম্ভব নয়—আবশ্যিক।
মে দিবস আমাদের মনে করায়—
শ্রমিকের লড়াই শুধু বাঁচার লড়াই নয়,
এটা গোটা মানবজাতির মুক্তির সংগ্রাম।

জয় হোক শ্রমের, জয় হোক স্বাধীনতার।
জয় হোক রাষ্ট্র ও পুঁজিবাদের শৃঙ্খল ভাঙার সংগ্রামের।


Comments

Leave a comment Cancel reply


Source: BASFD Bangladesh

Laisser un commentaire